সারাদেশ

মৃত ভাইয়ের সম্পত্তি দখল বিধবা স্ত্রীকে মারধর

মৃত ভাইয়ের সম্পত্তি দখল বিধবা স্ত্রীকে মারধর

মৃত ভাইয়ের সম্পত্তি দখল: বিধবা স্ত্রীকে মারধর করে বাড়ি থেকে উৎখাতের চেষ্টা
নিজস্ব প্রতিবেদক –
সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার ২নং লক্ষীপ্রাসাদ ইউনিয়নের গোরকপূর গ্রামের এক অসহায় বিধবা নারীকে পিটিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তার দেবর-ভাসূর ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। মৃত বড় ভাইয়ের সম্পত্তি দখলের নেশায় মত্ত হয়ে তারা এই বর্বরোচিত হামলা চালায় বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান দিন মজুর আজির উদ্দিন। তার মৃত্যুর পর থেকেই বসতভিটা ও পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে তার স্ত্রী মরিয়ম বেগমের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছিলেন দেবর-ভাসূর ও অন্যান্য আত্মীয়রা। মরিয়ম ৩ শিশু সন্তানের অসহায় জননী।তার বড় কোনো সন্তান না থাকায় এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তাকে তার স্বামীর পৈত্রিক ভিটা থেকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র শুরু হয়।

মরিয়ম বেগম কানাইঘাট থানায় উপস্থিত হয়ে অভিযোগ করেন যে বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার ঘরে প্রবেশ করে এবং তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা মরিয়ম কে চুল ধরে টেনে হিঁচড়ে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে এবং এলোপাতাড়ি মারধর করে।মরিয়মকে মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে, শিশু সন্তানকে জিম্মি করে খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়। মরিয়মের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

আহত অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে মরিয়ম বেগম বলেন:
“আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকেই তারা আমাকে জ্যান্ত কবর দিতে চাইছে। এই বাড়ি আমার স্বামীর ঘাম ঝরানো টাকায় করা। এখন আমি কোথায় যাব? আমার ছোট ছোট বাচ্ছাগুলোর ভবিষ্যৎ কী? তারা শুধু আমার জমি চায় না, আমাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে চায়।”

ঘটনার পর মরিয়ম বেগম স্থানীয় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তার অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল রাতে অভিযান চালিয়ে মামলার ৪নং আসামি আলবাব(২৮) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মানবাধিকার কর্মীদের উদ্বেগ
নারী ও মানবাধিকার কর্মীরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বলছেন, আমাদের সমাজে আজও বিধবা নারীরা সম্পত্তির উত্তরাধিকার নিয়ে চরম অনিরাপত্তায় ভোগেন। আইনের সঠিক প্রয়োগ এবং সামাজিক সচেতনতা ছাড়া এই ধরনের অমানবিক ঘটনা রোধ করা সম্ভব নয়।

মন্তব্য করুন